"নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ দেখায়, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক" — সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত ৯
কুরআন, কুরআ-ন মাজী-দ বা কোরআন (আরবি: القرآنআল্-কুর্'আন্) — পবিত্র কোরআন হলো মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবনধারার নিয়ম-নীতি, যেখানে মানবজাতির জন্য রয়েছে সংবিধান ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।
মানুষের জন্য নির্দেশ ম্যানুয়াল। The Holy Qur'an is an instruction manual for people. কোরআন মানবজাতির জন্য অবতীর্ণ একটি সর্বজনীন গ্রন্থ — পবিত্র ধর্মগ্রন্থ, যা আল্লাহ'র বাণী এবং আরবি শাস্ত্রীয় সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট রচনা।
এই গ্রন্থটি ফেরেশতা জিবরাইল (আ:)-এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (সা:)-এর কাছে মৌখিকভাবে ভাষণ আকারে অবতীর্ণ হয়। কুরআনের প্রথম আয়াত অবতীর্ণ হয় ৬০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ডিসেম্বর, যখন হযরত মুহাম্মাদ (সা:)-এর বয়স ৪০ বছর, এবং অবতরণ শেষ হয় ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে — দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে সম্পূর্ণ কুরআন অবতীর্ণ হয়।
মুসলমানরা বিশ্বাস করে কুরআন হযরত মুহাম্মাদ (সা:)-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অলৌকিকত্ব, যা তাঁর নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ এবং ঐশ্বরিক বার্তা প্রেরণের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পর্যায়। ইসলামের অনুসারীদের জন্য কুরআন একটি বিধান।
০
সূরা
০
বছর ধরে অবতীর্ণ
০
বার "কুরআন" শব্দটি এসেছে
০–০
খ্রিষ্টাব্দ (অবতরণকাল)
প্রতিদিনের আমল
দোয়া ও আমল
✦
রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়াসমূহ — আরবি, উচ্চারণ, অর্থ ও হাদিসের রেফারেন্সসহ
জান্নাতের ধনভাণ্ডার
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
আবু মুসা আশআরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) একবার আমাকে বললেন, "তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভাণ্ডারের কথা কি বলে দেব?" আমি বললাম, অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন—
لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللهِ
উচ্চারণ: লা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত অনিষ্ট দূর করার এবং কল্যাণ লাভের কোনো শক্তি কারো নেই।
এই দোয়া নিয়মিত পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বিশেষ জ্ঞান দান করবেন, স্মরণশক্তি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে দেবেন। উপকারী আমল: গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, অধিক জিকির করা, মধু ও কিসমিস খাওয়া।
সুরা ত্বাহা, আয়াত: ১১৪
সুস্থতা
ব্যথা দূর হওয়ার দোয়া
أعوذُ بعِزَّةِ اللهِ وقُدرتِه من شرِّ ما أَجِدُ وأُحاذِرُ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার দেহ সুস্থ রাখুন। আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে ও দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নাই।
যাদের চোখে সমস্যা রয়েছে তারা বলতে পারেন: اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ بَصَرِىْ — "আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন শাররি বাসারি" (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আমার চোখের অপকারিতা থেকে আশ্রয় চাই)।
সকাল-সন্ধ্যা
সুস্থ ও রোগমুক্ত থাকার দোয়া
আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত — তাঁর পিতা প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার পড়তেন—
এই দোয়া পাঠ করলে ১০ লাখ পুণ্য হবে, ১০ লাখ পাপ মোচন হবে, ১০ লাখ মর্যাদা বৃদ্ধি হবে এবং জান্নাতে আপনার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করা হবে।
তিরমিজি: ৩৪২৮, ৩৪২৯ (শাইখ আলবানি: হাসান সহিহ)
ঘুম থেকে উঠে
ঘুম থেকে উঠার দোয়া
الحمدلله الذي أحيانا بعدما أماتنا و إليه النّشور
উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত বানানোর পর জীবিত করেছেন। আর তাঁর দিকেই পুনরুত্থান।
বুখারি: ৬৩২৪
আশ্রয় প্রার্থনা
রাসুল (সা.)-এর আশ্রয়ের দোয়া
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন—
অর্থ: "হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় কামনা করছি কবরের শাস্তি থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে এবং দাজ্জালের ফেতনা থেকে।"
সহিহ বুখারি: ১৩৭৭
সহজ আমল, অশেষ সওয়াব
ফজিলতপূর্ণ আমলসমূহ
✦
দরুদ পাঠ
মহানবী (সা.)-এর উপর ৫০ বার দরুদ পাঠ করা যায় — শুধু "সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম" পড়লেও চলে। প্রতিদানে আল্লাহ ৫০০ বার রহমত পাঠাবেন। একবার দরুদে ১০ বার প্রতিদান।
☪
সুরা ইখলাস ৩ বার
সুরা ইখলাস তিনবার পড়লে পুরো কোরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যায়। (বুখারি: ৫০১৫)
🌙
প্রতি রাতে সুরা মুলক
প্রতি রাতে সুরা মুলক (৬৭ নম্বর সুরা) পাঠ করুন। এতে কবরের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন।
✧
অজুর পর কলেমা শাহাদত
"আশহাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারিকা লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু" — এতে জান্নাতের আটটি দরজার যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। (সহিহ মুসলিম: ৪৪১)
✦
প্রিয় জিকির
প্রিয়নবী (সা.) বলেন, "সুব্হানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আক্বার পাঠ করা — যা কিছুর উপর সূর্য উদিত হয়েছে সবকিছু থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়।" (মুসলিম: ২৬৯৫)
❁
নারীদের জন্য আরও সহজ
চারটি কাজ — ১. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, ২. রমজানের সিয়াম, ৩. লজ্জাস্থানের হেফাজত, ৪. স্বামীর আনুগত্য — এই চার আমলের বিনিময়ে জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৬৩)
সুন্নাহ মোতাবেক দিন শুরু
ঘুম থেকে উঠে মুমিনের করণীয়
✦
১
ঘুমের প্রভাব দূর করা
হাত দিয়ে চেহারা থেকে ঘুমের প্রভাব দূর করা। (বুখারি: ১৮৩)
রাতে জেগে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু…" পাঠ করে অথবা "আল্লাহুম্মাগ ফিরলি" (হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন) বলে দোয়া করলে তা কবুল করা হবে। (বুখারি: ১১৫৪)
৪
সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত
আকাশের দিকে তাকিয়ে সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পড়া। (মুসলিম: ৬৭৩)
৫
মিসওয়াক করা
রাসুল (সা.) ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করতেন। মিসওয়াক না পারলে ব্রাশ বা অন্যভাবে দাঁত-মুখ পরিষ্কার করা। (বুখারি: ২৪৫)
৬
অজু ও পবিত্রতা
অজু করে পবিত্রতা অর্জন করা। গোসল ফরজ হলে গোসল করে পবিত্র হওয়া।
৭
তাহাজ্জুদ সালাত
সম্ভব হলে শেষরাতে তাহাজ্জুদ আদায় করা — শেষরাত তওবার সর্বোত্তম সময়। "তারা শেষরাতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।" (সুরা জারিয়াত: ১৮)
৮
জামাতে ফজরের সালাত
জামাতের সঙ্গে ফজরের সালাত আদায় করা। আল্লাহ তাআলা সবার দিন সুন্নত মোতাবেক শুরুর তাওফিক দান করুন।
ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি
Our Work
✦
পবিত্র কুরআনের নির্বাচিত আয়াত ও জিকিরের ক্যালিগ্রাফি সংগ্রহ